দেশে গত বছর রাজনৈতিক সংঘাত ছাড়াও নানা সংকটে ছিল অর্থনীতি। মুদ্রাস্ফীতির কারণে প্রভাব পড়েছে বিলাসপণ্যের চাহিদায়। ফলে চায়ের ব্যবহার উৎপাদনও নিম্নমুখী হয়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ড জানিয়েছে, ২০২৪ সালে দেশে চা উৎপাদন কমেছে ৯৯ লাখ কেজি।
বাংলাদেশ চা বোর্ড থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, গত বছর দেশে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১০ কোটি ৮০ লাখ কেজি। ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার কেজিতে।
বাংলাদেশ চা বোর্ড কয়েক বছরের ধারাবাহিক উৎপাদন প্রবৃদ্ধিকে সামনে রেখে উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভোগ কমার পাশাপাশি এ সময় দেশে ভালো মানের চায়ের চাহিদা না থাকায় নিলামগুলোয় কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছিল না বাগানগুলো। এতে উৎপাদন কমিয়ে খরচ কমানোর দিকে ঝুঁকছেন বাগান মালিকরা। এটিও মোট উৎপাদন কমার পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া এক্ষেত্রে সর্বশেষ মৌসুমে প্রয়োজনের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতও দায়ী।
জানা গেছে, গত বছর শুধু জুন ও অক্টোবরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাড়তি চা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে বাগানগুলো। বাকি সময় তা নিম্নমুখী ছিল এবং নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এটি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশের ১৬৮টি চা বাগান ও ক্ষুদ্রায়তন বাগানের মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৬৬ লাখ ৫১ হাজার কেজি, ডিসেম্বরে যা ছিল ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার কেজি।
বাগানসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে চা উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন খরচ বেশি হলেও নিলামে সে অনুযায়ী দাম পাওয়া যায় না। বছরব্যাপী বাগানগুলোকে বাড়তি লোকসানের বোঝা বহন করতে হয়। এছাড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় বাগানগুলো উৎপাদন অনেকটা স্বাভাবিক রাখলেও কম বিনিয়োগসম্পন্ন বাগানগুলো সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়েছে।
চা খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে চায়ের কেজিপ্রতি গড় উৎপাদন খরচ ২২০-২৪০ টাকা। নিলাম বাজারে বর্তমানে তা লেনদেন হচ্ছে গড়ে ২০০-২২০ টাকায়। কয়েক বছর ধরে টানা লোকসানের ফলে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন বাগান মালিকরা। ফলে সার্বিক চা উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে। নিলামে ন্যূনতম গড় দাম নির্ধারণ সত্ত্বেও অধিকাংশ বাগানই কাঙ্ক্ষিত মূল্যে চা বিক্রি করতে পারছে না। দেশে চাহিদার তুলনায় বাড়তি উৎপাদন হলেও রফতানি কম হওয়ায় বছরব্যাপী উদ্বৃত্ত চা থেকে যাচ্ছে। এ কারণে নিলামে চায়ের চাহিদা আশানুরূপ নয়।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের উপপরিচালক (পরিকল্পনা) সুমন শিকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চা উৎপাদনের বছর শেষ হয়েছে ডিসেম্বরে। আগের বছরের চেয়ে ২০২৪ সালে চা উৎপাদন কম হলেও দেশের সার্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রয়েছে।’
বাংলাদেশী চা সংসদের সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হচ্ছে। কিন্তু উদ্বৃত্ত চা থাকলেও রফতানিতে ধীরগতির কারণে নিলামে চায়ের চাহিদাও কম। চা বিক্রিতে মন্দা ভাব বজায় থাকলে আগামীতে দেশে চা উৎপাদন আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।